সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন এক ইহুদি নারী!

ইহুদি ধর্ম ছেড়ে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন ইসরাইলের এক নারী। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরে ইলাতে থাকাকালীন সময়ে পরিবারের দুটি শিশুবাচ্চাকে সাময়িক সময়ের জন্য অপহরণ করে ইসরাইলের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদেরকে বাপদাদাদের ভিটেমাটি ছাড়ার হুমকি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে জীবন বাঁচানোর তাকিদে পশ্চিম তীরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তারা।

ইসরাইলি টিভি চ্যানেল থার্টিন জানিয়েছে, ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা ইলাত শহরে বসবাসকারী এই নারী হঠাৎ করেই তার পূর্বপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দেন। ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় গণমাধ্যম দুনিয়া আল-ওতানের খবরে বলা হয়েছে,মুসলিম হওয়ার পরে ইলাত ছেড়ে সপরিবারে পশ্চিম তীরের খলিল পর্বতের পাদদেশে হিজরত করেছেন নওমুসলিম ওই নারী।তবে পরিবারের মোট কতজন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, খবরে তা বলা হয়নি।

নুসরাতের গোটা পরিবারকে পু’ড়িয়ে মা’রার হু’মকি ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পু’ড়িয়ে মা’রার মা’মলার অভিযোগ গঠনের দিন আ’সামিরা এজলাস ও আ’দালত চত্বরে তার বড় ভাই মাহমুদুুল হাসান নোমানের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর তাঁরা দেখে নেবেন বলে হু’মকিও দিয়েছিলেন। নোমান এই মা’মলার বা’দী।

গত বৃহস্পতিবার ফাঁ’সির রায় শোনার পর আ’দালতের ভেতরেই আ’সামিরা নুসরাতের মতো তার পরিবারের সবাইকে পু’ড়িয়ে মা’রার হু’মকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে পরিবারটি বিচলিত। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আশ্বস্ত করে বলেছেন, যত দিন দরকার নিরাপত্তা পাবে নুসরাতের পরিবার। গত বৃহস্পতিবার নুসরাত হ’ত্যা মা’মলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নি’র্যাতন দ’মন বিশেষ ট্রা’ইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। মা’মলার ১৬ আ’সামির সবাইকে ফাঁ’সিতে ঝুলিয়ে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় দেন তিনি।

রায় ঘোষণার পর নুসরাতের পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর এজলাসে দাঁড়িয়ে ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও হাফেজ আব্দুল কাদের আমাকে প্রকাশ্যে হ’ত্যার হু’মকি দেয়। তারা বলে, আমাদের পরিণতিও নুসরাতের মতো হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এই ভেবে বিচলিত যে ফাঁ’সির দ’ণ্ড নিয়ে এ আ’সামিরা যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটা নজিরবিহীন।’

গতকাল শুক্রবার নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘মা’মলার বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে ও লোক মারফত আ’সামিদের স্বজনরা আমার পরিবারের সদস্যদের হুকমি-ধমকি দিয়ে আসছে।’ নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুুল হাসান নোমান বলেন, মা’মলার অভিযোগ গঠনের দিন আ’সামিরা একবার তাঁকে হু’মকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রায় হওয়ার পরও আ’দালতের ভেতরেই ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামিরা সবার সামনে তাঁকে হু’মকি দেন এবং গালাগাল করেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগেও হু’মকি পেয়েছি, এবার আ’দালতে বসে তারা হু’মকি দিল।

আমরা আ’তঙ্কে আছি। কারণ তারা প্রভাবশালী এবং তাদের অনেক অনুসারী ও আত্মীয়-স্বজন আছে।’ আ’দালতের ভেতরে হ’ত্যার হু’মকি পাওয়ার বি’ষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে জানিয়ে নোমান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আ’সামিদের ফাঁ’সির রায় হলেও তাদের লোকজন তো বাইরে আছে।’ তবে নোমান বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল থেকে আমাদের বাড়িতে সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জে’লা পুলিশ প্রশাসন। রায় ঘোষণার দিনে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো বাড়ানো হয়েছে। আমি ফেনীর পুলিশ সুপার সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই যে তিনি সব সময় আমাদের নিরাপত্তার বি’ষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।’ আ’সামিদের আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল বলেন, ‘ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামিরা হয়তো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, আমি তাদের হু’মকি দিতে দেখিনি।’ সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মঈন উদ্দিন আহামেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নুসরাতের বাড়ির সকল সদস্যের নিরাপত্তার বি’ষয়টির গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রেখেছি এবং মা’মলার রায় ঘোষণার আগের দিন থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জো’রদার করেছি। তার পরও আমরা নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়মিত কথা বলছি ও তাদের আশ্বস্ত করছি নিরাপত্তার বি’ষয়ে।’ ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরনবী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বি’ষয়ে খোঁজখবর রাখছি। ইনশাআল্লাহ আমি আবারও আপনাদের মাধ্যমে নুসরাতের পরিবারের সকল সদস্যের আশ্বস্ত করছি, বিন্দুমাত্র তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না। ইতিমধ্যে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা দ্বিগুণ জো’রদার করেছি। প্রয়োজনে আমরা সাদা পোশাকে নিরাপত্তা জো’রদার করব।’ উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রে’প্তার করা হয় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আ’গুন ধরিয়ে দেন সিরাজের অনুসারীরা। হ’ত্যাকারী ও তাঁদের সহযোগীরা ঘটনাটিকে আত্মহ’ত্যা বলে প্রচার চালিয়ে ব্যর্থ হন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃ’ত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মা’মলা ত’দন্ত শেষে গত ২৯ মে ১৬ আ’সামির বি’রুদ্ধে আ’দালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ২০ জুন আ’সামিদের বি’রুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আ’দালত। গতকাল মা’মলার রায় ঘোষণা করা হয়, যাতে নুসরাতকে হ’ত্যার হুকুমদাতা অধ্যক্ষ (বরখাস্তকৃত) সিরাজ ও হ’ত্যাকাণ্ডে নানা ভূমিকায় থাকা ১৬ আ’সামির সবার ফাঁ’সির আদেশ হয়েছে। এলাকাবাসীর সন্তোষ : রায়ের পর এলাকার সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এলাকাবাসী মনে করছে, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচারের প্রতিফলন ঘটেছে। খু’নিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়ায় আর কেউ কোনো নারীর ওপর নি’র্যাতন করতে সাহস করবে না। সোনাগাজী উপজে’লার মহেশ্চর গ্রামের মোশারফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নুসরাত একজন প্রতিবা’দী ছাত্রী ছিল। রায়ের মাধ্যমে নুসরাতের আত্মা শান্তি পাবে। আমরা এই রায়ে খুশি।’ সোনাগাজী বাজারের ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো কেউ কোনো নারীর ওপর নি’র্যাতন করে পার পেতে পারে না। নুসরাত সব সময় অন্যায়ের বি’রুদ্ধে প্রতিবাদ করত। আমরা খু’নিদের ফাঁ’সির রায় কার্যকর দেখতে চাই।’ উপজে’লা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, ‘এই রায় প্রমাণ করে অ’পরাধী যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অ’পরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।’ বাখরিয়া গ্রামের জাবেদ হোসেন বলেন, ‘উচ্চ আ’দালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *