তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য প্রকাশ করলো জাপানীরা !

জাপানে ৯০ কিংবা ১০০ পার হওয়া বুড়োরাও যুবকদের মতোই স্বাস্থ্য নিয়ে ঘোরেন। শুধু তাই নয়, ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখার ব্যাপারে জাপানিদের গর্বেরও সীমা নেই। এর পেছনের রহস্য কী? জানা গেছে, জাপানের ওকিনাওয়া ডায়েটই এর মূল কারণ।জাপানের রিয়ুকু দ্বীপপুঞ্জ বিখ্যাত বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়ুর হারের কারণে। এই দ্বীপগুলোর মধ্যে ওকিনাওয়া হলো সবচেয়ে বড়। এই দ্বীপের মানুষেরা ২০-২১ বছর বয়স থেকেই অনুসরণ করেন একটি বিশেষ ডায়েট, যা তাদের শরীরকে উচ্চতা অনুযায়ী মেদহীন ও ঝরঝরে রাখতে সাহায্য করে।

জেনে নিন সেই বিশেষ ডায়েট প্ল্যানের কথা, যা অনুসরণ করলে রোগহীন দীর্ঘ জীবন পাবেন আপনিও। ১. কখনো পেটপুরে খাওয়া নয় জাপানের অতি পুরানো একটি রীতি হলো পেট আশি শতাংশ ভরে গেলেই খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া। এই রীতির নাম ‘হারাহাচিবু’। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, পেট পুরোপুরি ভরে গেলে মস্তিষ্ক কিছুটা সময় নেয় যা যা খাওয়া হয়েছে, তাকে কোথায় কাজে লাগানো যায়- তা খুঁজে বের করার।

এই সময়টাতে ক্ষুধাবোধ আবার বেড়ে যায়, এবং তখনই আমরা বেশি খেয়ে ফেলি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের হজমশক্তিও কমে যায়, তাই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে স্থূলতার মতো সমস্যা। তাই জাপানিদের হারাহাচিবু রীতি মেনে পেট কিছুটা ভরে গেলেও উঠে পড়া উচিৎ খাবার টেবিল থেকে। এভাবে শরীরকে ঝরঝরে রাখতে পারবেন বছরের পর বছর। ২ পুষ্টিকর খাবারে প্রাধান্য দেয়া জাপানিরা প্রাকৃতিক এবং পুষ্টিকর খাবারে বিশ্বাসী। ওকিনাওয়া ডায়েটের মূল প্রতিপাদ্যও পুষ্টিকর খাবার। আর সেকারণেই সবুজ সবজি ও সামুদ্রিক মাছের উপর জোর দেওয়া হয় এই ডায়েটে। এসব পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারে থাকে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা মেদ পুড়িয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরের বুড়িয়ে যাওয়ার হারও দারুণভাবে কমে যায় এতে।

৩ গম ও দুগ্ধজাত খাবার কম খাওয়া গম ও দুধের নানা খাবার অনেকের জন্যই তৈরি করে পেটের সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে এসব খাবারে অ্যালার্জিতেও আক্রান্ত হন অনেকেই। সেকারণেই ওকিনাওয়া ডায়েট এ ধরণের খাবার এড়িয়ে চলারই পরামর্শ দেয়। ৪ খাবার খান ক্যালরি বুঝে ওকিনাওয়া ডায়েটে খাদ্য তালিকা ভাগ করা হয় ক্যালরির হিসেবে। ০.৮ ক্যালরির খাবার বেশি বেশি করে খাওয়ার ব্যাপারে জোর দেয়া হয় এই ডায়েটে। দেড় ক্যালরির খাবারগুলোও খাওয়া যায় হরহামেশাই। তবে ৩ থেকে নয় ক্যালরির খাবার খাওয়ার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করাই ভালো- এমনটাই মত জাপানিদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *